সোনিয়া বেগম (২২), পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা। এক ছেলে ও স্বামীকে নিয়ে বেশ কষ্টের সংসার। ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার পর দারিদ্র্যের কারণে সোনিয়ার বাবা একই ইউনিয়নের মাহাবুব হোসেনের সাথে তার বিয়ে দিয়ে দেন। ফলে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার আলোয় সোনিয়া নিজেকে বেশি দূর নিয়ে যেতে পারেননি। তার স্বামী অন্যের জমিতে কৃষিকাজ করেন এবং মাঝে মাঝে ভ্যান গাড়ি চালান। ২০২০ সালে পিকেএসএফ’র সহযোগিতায় পরিচালিত প্রসপারিটি প্রকল্পের জরিপ কার্যক্রমের সকল ধাপ সম্পন্ন করে সোনিয়া গোলাপ প্রসপারিটি গ্রাম কমিটির সদস্য হন।
গ্রাম কমিটিতে আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি চাষ বিষয়ে আলোচনা হয়। কমিটির আলোচনা শেষে সোনিয়া বেগম সবজি চাষ করার ইচ্ছা পোষণ করেন। এ প্রেক্ষিতে প্রকল্পের কারিগরি টিম তাকে উচ্চমূল্যের নিরাপদ সবজি চাষ বিষয়ে ২ দিনের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। প্রশিক্ষণ শেষে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট হতে সবজি চাষের জন্য সোনিয়াকে ১০ হাজার টাকা অনুদান দেয়া হয়, যা দিয়ে তিনি সবজি চাষ শুরু করেন।
অনুদানের পাশাপাশি সোনিয়া সংস্থা থেকে ৬০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। প্রাথমিকভাবে ৪০ শতক জমি লিজ নিয়ে সবজি চাষ শুরু করেন। এক্ষেত্রে প্রসপারিটি প্রকল্পের কারিগরি টিম তাকে নিয়মিত জমি প্রস্তুত, বেড তৈরি, মাচা নির্মাণ ও জৈব বালাইনাশক বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করেন। সে অনুযায়ী সোনিয়া ও তার স্বামী উভয়ে মিলে কাজ করতে থাকেন। তাদের জমিতে বছরের বিভিন্ন মৌসুমভিত্তিক সবজি চাষ হচ্ছে। যেমন: লাউ, বরবটি, করোলা, চিচিংগা ও লাল শাক ইত্যাদি। গত খরিপ-২ মৌসুমে সোনিয়া প্রায় ৩৫ হাজার টাকার সবজি এবং রবি মৌসুমে শীতকালীন সবজি থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয় করেন। বর্তমানে সোনিয়ার খেতে শসা, বেগুন, মিষ্টি কুমড়া ও কলমি শাক চাষ হচ্ছে। তিনি আশা করছেন, এই মৌসুমে তার প্রায় ৪০-৫০ হাজার টাকা আয় হবে।
সোনিয়া দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে বলেন, “সবজি চাষের মাধ্যমে আমরা একদিন দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র থেকে বের হয়ে আসবো। ইতিমধ্যে আমাদের অভাব কিছুটা হলেও কমেছে। বর্তমানে দেশে সবজির প্রচুর চাহিদা রয়েছে এবং ভালো দাম পাওয়া যায়। ফলে সবজি চাষের মাধ্যমে আমারা সফল হতে পারবো। আমি যা করতে পারিনি, আমার ছেলেকে লেখাপড়া শিখিয়ে প্রকৃত মানুষ বানাবো। আমার এই পথ চলায় ওয়েভ ফাউন্ডেশনের প্রসপারিটি প্রকল্প পাশে থেকে যে জ্ঞান, অর্থ ও কারিগরি সহায়তা দিয়েছে তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”