ওয়েভ ফাউন্ডেশনের কৃষি ইউনিটের উদ্যোগে ২৩ জুন, ২০২৫ চুয়াডাঙ্গার গো গ্রীন সেন্টারে আয়োজন করা হয় এক অনন্য সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানে সম্মাননা প্রদান করা হয় ৬ জন সফল কৃষি উদ্যোক্তাকে, যাদের মধ্যে চারজন পুরুষ এবং দুই জন নারী কৃষক । অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “এ ধরনের উদ্যোগ কৃষকদের মধ্যে একটি শক্তিশালী ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম। যারা কৃষি ক্ষেত্রে নতুন উদ্যোগ নিয়েছেন, তারা শুধুমাত্র নিজের পরিবারকে নয়, পুরো সমাজকেই সমৃদ্ধি এনে দিয়েছেন।” এ বছর কৃষি, মৎস্য এবং প্রাণিসম্পদ খাতে কৃষি উদ্যোক্তাদের সম্মাননা দেওয়া হয়। প্রত্যেকেই তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। চলুন সংক্ষেপে প্রত্যেকের কার্যক্রম সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক-
১. মোঃ সাইফুল ইসলাম (সবজি উৎপাদন): দামুড়হুদা উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের মোঃ সাইফুল ইসলাম ৫ হাজার টাকা দিয়ে তার দশ শতক জমিতে সবজি চাষের উদ্যোগ শুরু করেছিলেন। ওয়েভ ফাউন্ডেশন থেকে প্রশিক্ষণ ও ঋণ নিয়ে তিনি উদ্যোগের সম্প্রসারণ ঘটান। এখন তার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৮০ হাজার টাকা এবং তিনি বছরে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা লাভ করছেন। বর্তমানে তার চাষকৃত জমির পরিমাণ দশ বিঘা।
২. মোঃ হাফিজুর রহমান (কম্পোস্ট সার উৎপাদন): তিনি শুরু করেছিলেন ছোট আকারে কেঁচো কম্পোস্ট সার উৎপাদন করে। ওয়েভ ফাউন্ডেশনের সহায়তায় এখন তিনি সফলভাবে ট্রাইকো কম্পোস্ট সার উৎপাদন করছেন এবং পর্যায়ক্রমে ৫০ লাখ টাকা ঋণ সহায়তা নিয়ে তার ব্যবসা সম্প্রসারিত করেছেন। পাশাপাশি তার নিজেরও বর্তমানে ৪৫ লক্ষ টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। তার উদ্যোক্তা জীবন শুধু নিজেরই নয়, ১৫-১৭ জন এলাকাবাসীর কর্মসংস্থানও তৈরি করেছে।
৩. মোঃ আমির হোসেন (মাছের পোনা উৎপাদন): বয়রা গ্রামের আমির হোসেন তার পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতার জন্যে ধান চাষের পাশাপাশি নিজস্ব ৩৩ শতাংশ জমিতে মাছ চাষ শুরু করেছিলেন। ওয়েভ ফাউন্ডেশনের সহায়তায় তিনি মাছের পোনা উৎপাদনে সফলতা পেয়েছেন এবং এখন ১৬ বিঘা জমিতে পোনা উৎপাদন করছেন।
৪. সুজন কুমার হালদার (মাছ চাষ): দামুড়হুদা উপজেলার পারকৃষ্ণপুর গ্রামের সুজন হালদার ২০০৫ সাল থেকে মাছ চাষ শুরু করেছিলেন। নিজের কোনো পুকুর না থাকায় শুরুতে ২ বিঘা পুকুর লিজ নিয়ে শুরু করেন মাছ চাষ। তার অদম্য সাহস এবং ওয়েভ ফাউন্ডেশনের সহায়তায় তিনি বর্তমানে ১০০ বিঘা জমিতে মাছ চাষ করছেন।
৫. স্বপ্না খাতুন (ছাগল পালন): কোষাঘাটা গ্রামের স্বপ্না খাতুন তার স্বামীর সংসারে আর্থিক টানাপোড়েনে সহায়তা করার জন্য ছাগল পালন শুরু করেন। শুরু করেছিলেন তিনটি ছাগল দিয়ে। পরবর্তীতে ওয়েভ ফাউন্ডেশন হতে তিনি মাচা পদ্ধতিতে ছাগল পালনের ওপর বিশেষ ট্রেইনিং লাভের পর খামার সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে লোন নেন। বর্তমানে তার খামারে ছাগলের সংখ্যা ১৪টি যার বাজার মূল্য প্রায় দেড় লক্ষ টাকা।
৬. শিলু মন্ডল (ভেড়া পালন): শিলু মন্ডল ২০২৪ সালে ৪টি ভেড়া দিয়ে তার খামারের যাত্রা শুরু করেছিলেন। বর্তমানে ৩০টি ভেড়া রয়েছে তার খামারে যার বাজার মূল্য প্রায় চার লক্ষ টাকা। তিনি ভেড়া পালন করে সংসারের খরচ, জমি ক্রয় এবং গৃহনির্মাণের খরচ বহন করছেন। ভ্যাক্সিন, কৃমিনাশক, জীবানুনাশকের ব্যাবহার ইত্যাদি নিশ্চিত করে তার উৎপাদন কার্যক্রম বৃদ্ধিতে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে ওয়েভ ফাউন্ডশেন।
উল্লেখ্য, ওয়েভ ফাউন্ডেশন কৃষি খাতের উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পিকেএসএফ’র অর্থায়নে, গত পাঁচ বছরে চুয়াডাঙ্গা জেলায় কৃষি উদ্যোক্তাদেরকে সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের জীবনমান উন্নত করার লক্ষ্যে কৃষকদের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, ঋণ সহায়তা, প্রযুক্তিগত পরামর্শ এবং দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে সংস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখছে ।



