মেহেরপুরের এক ছোট গ্রামে কৃষক আবু তালেব বসবাস করেন। ৫২ বছর বয়সী তালেব, প্রথাগত ফসল চাষে দক্ষ হলেও নতুন প্রযুক্তি ও উন্নত জাতের ফসল চাষে আগ্রহী ছিলেন। একদিন যখন তিনি স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করেছিলেন, তখন ওয়েভ ফাউন্ডেশন এর সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজের অধীন “অঙ্কুর সীডস” এর কর্মকর্তারা তাকে বারি পেঁয়াজ ৫ চাষের পরামর্শ দেন। সেই পরামর্শে প্রভাবিত হয়ে, ২০২২ সাল থেকে তিনি নিজেই “অঙ্কুর সীডস” এর বারি পেঁয়াজ ৫ এর বীজ সংগ্রহ করে নার্সারিতে বপন শুরু করেন।
তালেব চাষের ক্ষেত্রে জৈব সার ও জৈব বালাইনাশকের সুষম ব্যবহারের গুরুত্ব ভালোভাবে বুঝতে পারেন। তিনি ৩৫-৪০ দিনের বয়সের চারা মূল জমিতে রোপণ করে, ৯০ থেকে ১১০ দিনের মধ্যে আগাম রবি মৌসুমে উচ্চ বাজার মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি করে লাভবান হন। তার হিসাব অনুযায়ী, এক বিঘায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচের বিপরীতে বছরে প্রায় ৮০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা মুনাফা আসছে।
কিন্তু গল্প এখানেই থেমে থাকেনি। যখন দেশীয় উন্নতমানের জাতের বীজ সহজলভ্য না হওয়ায় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়, তখন “অঙ্কুর সীডস” এর কর্মকর্তাদের নিবিড় পরামর্শে তালেব ছোট পরিসরে, ৫ কাঠা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে বারি পেঁয়াজ ৫ এর বীজ উৎপাদন শুরু করেন। সফলতার সাথে তিনি এই উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করার সিদ্ধান্ত নেন। বর্তমানে, তিনি ৮ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন করছেন এবং বছরে প্রায় ৬০০-৬৫০ কেজি বীজ উৎপাদনের মাধ্যমে ৮ লক্ষ টাকার মতো মুনাফা অর্জন করছেন।
তার এই সাফল্য শুধু নিজের আর্থিক অবস্থার উন্নতি নিয়ে আসেনি, বরং এলাকার অন্যান্য কৃষকদেরও গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষে উদ্বুদ্ধ করেছে। তার উৎপাদিত বীজের চাহিদা স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এলাকার পেঁয়াজ চাষের সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতে, তিনি আরও বেশি জমিতে বারি পেঁয়াজ ৫ এর বীজ উৎপাদনের পরিকল্পনা করছেন। তিনি আশাবাদী যে, তার এই উদ্যোগ এলাকার কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে এবং অন্যান্য কৃষকদেরও স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করবে।