পটুয়াখালী আর বরগুনার উপকূলীয় গ্রামগুলোতে এক সময় মানুষ জানতই না সরকারি সেবাগুলো আদৌ তাদের জন্য বরাদ্দ আছে কি-না। স্বাস্থ্যসেবা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে কৃষি কিংবা পানির সমস্যাসহ অন্যান্য সরকারি সেবা পাওয়ার বিষয়টি তারা ভাগ্য কিংবা কপালের ওপর ছেড়ে দিতেন। কিন্তু সেই নীরবতা এখন আর নেই। পটুয়াখালী জেলার সদর ও কলাপাড়া উপজেলা এবং বরগুনা জেলার সদর ও বেতাগী উপজেলা, এই চার উপকূলীয় অঞ্চলের প্রান্তিক মানুষেরা আজ এসব বিষয়ে প্রশ্ন করছে, মতামত দিচ্ছে, সিদ্ধান্ত জানতে চাচ্ছে। এর পেছনে আছে ওয়েভ ফাউন্ডেশন বাস্তবায়নাধীন ‘বাংলাদেশে তৃণমূল জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের মাধ্যমে জলবায়ু সুশাসন শক্তিশালীকরণ (এসসিজিজিপি)’ প্রকল্পের অধীন বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের উপর তৈরি হওয়াআস্থা। এসসিজিজিপি প্রকল্পের শুরুতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অনেকেই অবিশ্বাস নিয়ে বলছিল, “আমাদের কথা শুনবে কে?” এই প্রশ্নটা প্রায় সবার চোখে ছিল। কিন্তু আজ, সেই চোখেই দেখা যায় দৃঢ়তা। প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত ৩৮টি দিনব্যাপী কারিগরি প্রশিক্ষণে তারা শিখেছেন কীভাবে নাগরিক স্কোরকার্ড, সামাজিক নিরীক্ষা ও গণশুনানির মতো সামাজিক জবাবদিহিতা টুলস ব্যবহার করে স্থানীয় সেবাপ্রদান ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা আনা যায়। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৯০০ জনেরও বেশি সিভিক ফোরাম সদস্য নিয়মিত স্থানীয় পরিষদের সঙ্গে বসছেন, নাগরিক স্কোরকার্ড দিয়ে পরিষেবার মান বিশ্লেষণ করছেন, আর সেবাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে গণশুনানির আয়োজন করছেন।

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার সিভিক ফোরাম সদস্য রহিমা খাতুন বলেন, “আমরা আগে জানতাম না কোথায় অভিযোগ করতে হয়, কাকে বলতে হয়। এখন আমরা নিজেরাই সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে পরিষদের সঙ্গে বসে সমাধানে উদ্যোগীহই।” তাদের তৎপরতায় এখন ইউনিয়ন পরিষদে স্থাপিত হয়েছে অভিযোগ বাক্স, তৈরি হয়েছে ফলোআপ কমিটি এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিকার নিশ্চিত করার প্রক্রিয়াও গড়ে উঠেছে। ওয়েভ ফাউন্ডেশন এ প্রক্রিয়াকে কার্যকর করতে মাঠপর্যায়ে সহায়তা, মেন্টরিং ও কৌশলগত দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছে। প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অর্ধবার্ষিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন। যেখানে স্থানভিত্তিক চাহিদা ও জলবায়ু ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে সময়োপযোগী ও কাঠামোবদ্ধ পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে স্থানীয় সেবা ব্যবস্থায় জনগণের কণ্ঠস্বর জোরালো হচ্ছে, নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জনসম্পৃক্ততা দৃশ্যমানভাবে বেড়েছে। উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নের একটি বিনিয়োগ হিসেবে প্রকল্পটি বার্তা দিচ্ছে তৃণমূল জনগোষ্ঠী যদি সচেতন, সংগঠিত ও সক্ষম হয়, তবে জলবায়ু সুশাসন কেবল সম্ভবই নয়, তা দীর্ঘস্থায়ীভাবেও প্রতিষ্ঠা করা যায়।

Contact Us

We're not around right now. But you can send us an email and we'll get back to you, asap.

Not readable? Change text. captcha txt