মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের দূর্গাপুর (পালপাড়া) গ্রামের কৃষক শেখ আব্দুর রহমান। কৃষির সঙ্গে যার বন্ধন ছিল নিবিড়। তবে রাসায়নিক সার, ওষুধ আর বাজারনির্ভর চাষাবাদের চক্রে বন্দি হয়ে তিনি প্রায়ই ভাবতেন, “এইভাবে আর কতদিন?” ওয়েভ ফাউন্ডেশনের ‘গ্রীন ইভ্যুলোশন প্রকল্প’ তার জীবনে পরিবেশসম্মত চাষাবাদের নতুন দরজা খুলে দেয় ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে। মাঠকর্মী মোছা. রেশমা খাতুন তখন তাকে জৈব কৃষি ও সমন্বিত খামার ব্যবস্থাপনার ধারণা দেন।

শুরুটা ছিল ছোট্ট একটি দল দিয়ে। ২৫ জন কৃষককে নিয়ে গঠিত হয় একটি কৃষক দল, যার নেতৃত্বে ছিলেন আব্দুর রহমান নিজেই। প্রকল্পের বিভিন্ন পর্বে অংশগ্রহণ করে তিনি শিখলেন কীভাবে মাটিকে সজীব রাখা যায়, কীভাবে খরচ কমিয়ে বিষমুক্ত খাদ্য উৎপাদন করা যায় এবং কীভাবে নিজের ফেলে দেওয়া জৈব উপকরণ দিয়েই তৈরি করা যায় পুষ্টিমানসম্পন্ন সার। “গোবর, ছাই আর গোমূত্র – এগুলো তো আগে ফেলেই দিতাম। এখন বুঝি, এগুলোতেই ভবিষ্যতের চাবি লুকানো,” বললেন আব্দুর রহমান, চোখে এক অন্যরকম দীপ্তি নিয়ে। এই যাত্রায় একা ছিলেন না তিনি। ওয়েভ ফাউন্ডেশনের কৃষিবিদ ইস্তিয়াক ইসলাম এবং মাঠকর্মীর সহায়তায় তিনি প্রতিটি পদক্ষেপে পেয়েছেন প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা, মেন্টরিং ও সাহস। প্রকল্প তাকে শুধু প্রযুক্তি শেখায়নি, দিয়েছে আত্মবিশ্বাস এবং নেতৃত্বের ক্ষমতা।

তার খামারে এখন রয়েছে ২২৪ শতক চাষযোগ্য জমি, ৫টি গরু, ৯টি হাঁস, ১০টি মুরগি। বাড়ির পাশে ছায়াঘেরা পতিত জমিতে নিজ হাতে খনন করা একটি ৮×৭×৫ ফুট গর্তে স্তরে স্তরে তৈরি হচ্ছে পিট কম্পোস্ট। আজ আব্দুর রহমান শুধু একজন কৃষক নন। তিনি দূর্গাপুর গ্রামের এক পরিবর্তনের দূত। তার দল এখন রাসায়নিক নির্ভরতা কমিয়ে জৈব চর্চায় অভ্যস্ত হচ্ছে। তারা বিশ্বাস করে কম খরচ, নিরাপদ খাদ্য এবং সুস্থতা হওয়া উচিত আগামী দিনের কৃষির মূলমন্ত্র। তিনি বলেন, “আমার এই পথচলা যদি একজন কৃষককেও বদলে দিতে পারে, তবে এই পরিশ্রম সার্থক। আমাদের সন্তানদের আমরা শুধু জমি না, তাদের জন্য একটা নিরাপদ পৃথিবী রেখে যেতে চাই।”

Contact Us

We're not around right now. But you can send us an email and we'll get back to you, asap.

Not readable? Change text. captcha txt